বিপদজনক ওবেসিটি বা ওজনাধিক্য বা স্থুলতা

ওবেসিটি (স্থুলতা) কী?

শরীরের ওজন স্বাভাবিক মাত্রার থেকে বেড়ে যাওয়াকে ওজনাধিক্য বলা হয়। যখন শরীরের চর্বির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় বেড়ে যায়, তখন তাকে স্থুলতা বলা হয়। শরীরের সুস্থতা এবং কাজ করার জন্য প্রয়োজন হয় শক্তি (ক্যালোরি); আর ক্যালোরি আসে আমাদের বিভিন্ন খাদ্য থেকে। একজন মানুষ যে পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করে এবং যে পরিমাণ খরচ করে, তার মধ্যে পার্থক্য থাকলেই ওজন পরিবর্তিত হয়। ক্যালোরি বেশি গ্রহণ করলে ওবেসিটি আর যদি খরচ বেশি হয়, তবে অপুষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে শরীরে নানারকম ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে এবং বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়। শরীরের বডি মাস ইনডেক্স (BMI) দিয়ে ওবেসিটির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত ১৮ থেকে ২২.৫-এর মধ্যে বিএমআই থাকলে তা একে স্বাভাবিক ধরা হয়। বিএমআই হলো শরীরের উচ্চতা এবং ওজনের অনুপাতিক হার। একজন ব্যক্তির স্বাভাবিক বিএমআই-এর সীমা হলো ২০-২৫ এর মধ্যে। কিন্তু, বিএমআই-এর মান ২৫-৩০ এর মধ্যে হলে তাকে স্থূল বলা হয়। ৩০ এর উপরে হলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ক্লাস-১ ওবেসিটি, ৩০-৩৫ হলে ক্লাস-২, ৩৫-৪০ হলে ক্লাস-৩ এবং ৪০ এর উপরে হলে একে সুপার ওবেসিটি বলা হয়। খুব বেশি ওজন মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে স্থুলতাকেই দায়ী করেন চিকিৎসকরা। ৪৫-৫৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এর প্রভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। শিশুদের ক্ষেত্রেও দিন দিন এর সমস্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ওবেসিটির জন্য নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস মেলিটাস, অস্টিও আর্থ্রাইটিস, বন্ধ্যাত্ব, নিদ্রাহীনতা, মানসিক অবসাদ, স্ট্রোক ইত্যাদি। ওবেসিটির কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তের কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একে ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’ বলা হয়। এর জন্য কয়েক ধরনের ক্যান্সারের আশঙ্কাও দেখা যায়।

ওবেসিটি থেকে বাঁচার উপায় কী?

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন পরিমিত খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম। দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ ঠিকঠাক বজায় রাখা প্রয়োজন এবং আপনার শরীরের জন্য তা কতটা উপযুক্ত, তা একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

মানুষের বয়স এবং ব্যক্তিগত খাদ্য গ্রহণের চাহিদা প্রতিটি মানুষের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাজের পরিপ্রেক্ষিতে পৃথক হতে পারে, তাই কোনো ধরনের পরিবর্তন আপনার জন্য বিপদজনকও হতে পারে। বাংলাদেশ শহরাঞ্চলে সম্প্রতি জাঙ্ক ফুড গ্রহণের পরিমাণ যতই বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততই কমবয়সী শিশু এবং কিশোরদের মধ্যেই ওবেসিটির সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শৈশবকালীন ওবেসিটি খুব দ্রুত মানুষের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সচেতনতার পাশাপাশি পুষ্টি ও পথ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করা উচিত।

Most Viewed

  • media
    ওজন নিয়ন্ত্রণ থেকে ডায়াবেটিস...

    19 October 2025

  • বিপদজনক ওবেসিটি বা ওজনাধিক্য...

    29 August 2024

  • media
    পুষ্টিবিদ, নাজমুন্নাহার বেগম, নিয়মিত...

    07 January 2026